শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | সময়: বিকেল ৩:১৭

একদিনে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল দুইজনের, এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিনে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, শহরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও ছড়িয়ে পড়ছে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।
ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজন হলেন- জিদনী সায়হাম (৩৫) ও সৈয়দ বানু (৬৫)। তারা দুজনেই ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা।
মৃত জিদনী সায়হাম দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা জিএম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জিদনী তিন দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে শরীরের প্লাটিলেট আশঙ্কাজনক হারে কমে গেলে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এবং বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অপরজন সৈয়দ বানু দুই দিন আগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে স্বজনরা তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে তার শরীরের অবস্থা অবনতি ঘটলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে, একের পর এক ডেঙ্গু মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের অবহেলা ও মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা স্থানীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, ভৈরব শহরের ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে পুরো শহরে ডেঙ্গু বিস্তার ঘটছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। আজকে একদিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাই আমরা সড়ক অবরোধ করেছি।
এসময় তিনি ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধসহ ময়লার স্তূপ সরিয়ে ফেলার দাবি জানান।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় শহরের বিভিন্ন জনবসতি জায়গায় ফেলা হচ্ছে। যার ফলে শহরে ডেঙ্গু প্রার্দুভাব বেড়েছে। যারা ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
রাজীবুল হাসান/এসজেডএইচ/জেআইএম

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট