শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | সময়: সকাল ৯:৪৩

নেপালে দুর্যোগ, দেশে ফিরতে পারছেন না তাসরিফ

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আটকা পড়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। বন্যা ও পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকে আছেন তিনি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছেন তাসরিফরা। কবে সেখান থেকে বের হতে পারবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত ২০ আগস্ট অবসর কাটানোর উদ্দেশ্যে নেপালে যান তাসরিফ। তার সঙ্গে রয়েছেন কুঁড়েঘর ব্যান্ডের গিটারিস্ট শামসুল আলম ও তানজীব খান। এছাড়া তাসরিফ স্কোয়াডের সিলেটের আসাদুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরের আশরাফুল ইসলামও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাসরিফ জানান, দুদিন ধরে তারা ঘান্দ্রুকে আটকা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘অবস্থা একদমই ভালো না। দুদিন ধরে আটকে রয়েছি। কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না। দুশ্চিন্তা প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে।’

আরও পড়ুন

‘মনসুন বিটস’ কনসার্টে প্রীতম হাসান, থাকছে আর্টসেলও

তাসরিফ জানান, তারা যে ঘান্দ্রুক পর্যটন গ্রামে অবস্থান করছেন, সেখানে পাহাড়ে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে গ্রামে পৌঁছানোর যে সড়কটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি বন্যা ও পাহাড়ধসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখান থেকে বের হওয়ার সহজ কোনো পথ নেই।
তার ভাষায়, ‘যে পথ দিয়ে এসেছি, সেই পথ পুরো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের এখান থেকে আর যাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই। নেপালের প্রশাসনও এই রাস্তায় চলাচল আপাতত বন্ধ রেখেছে।’
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে তাদের গাইড বাইরে গেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে তিনি শুক্রবার ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে আরও দুই থেকে তিন দিন সেখানে থাকতে হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন

তৃতীয় বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন অভিনেত্রী প্রভা

এর মধ্যে দেশে ফেরার টিকিট নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তাসরিফ ও তার সঙ্গীরা। বৃহস্পতিবারই তাদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। তাসরিফ বলেন, ‘ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালে সাড়ে ৫ হাজার ফুট ওপরে বন্দি হয়ে আছি। আবার দেশে যাওয়ার টিকিটও খুঁজছি, কিন্তু মিলছে না। কবে টিকিট পাব জানি না।’
শুধু দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা নয়, অর্থ ও খাবার নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। তাসরিফ জানান, তাদের কাছে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও ১০০ ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও প্রত্যন্ত ওই এলাকায় কার্ড ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘টাকা-পয়সা নিয়ে একটু বিপদে আছি। এখানে তো ডলার চলে। সঙ্গে অল্প নগদ নেপালি রুপি আর ১০০ ডলার আছে। কার্ডে টাকা আছে। কিন্তু এখানে কার্ড বা অন্য কিছু চলে না। শিগগির আমাদের কাছে থাকা ডলার ফুরিয়ে যাবে।’
বিকল্প পথে বের হওয়ার সুযোগ থাকলেও সেটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাসরিফ জানান, হিমালয়ের কাছাকাছি অবস্থান করায় তাদের ফেরার পথের অনেক জায়গায় পাহাড়ধস হয়েছে। নদীর পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করে যেতে হতে পারে। এর মধ্যে কোথাও পাহাড়ি ঢল নামছে, কোথাও আবার নতুন করে ভূমিধস হচ্ছে। ফলে হেঁটে বের হওয়ার পথও নিরাপদ নয়।
এদিকে নেপালে যাওয়ার কারণও জানিয়েছেন তাসরিফ। টানা কাজের ব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে কিছুদিনের জন্য অবসর কাটাতেই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ভ্রমণই এখন অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশে ফিরে নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিওর শুটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে তাসরিফের। তবে তার আগে নিরাপদে দেশে ফিরতে চান তিনি। এজন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
উল্লেখ্য, নেপালের রসুয়া-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভয়াবহ দুর্যোগের মূল এলাকা থেকে তাসরিফ ও তার সঙ্গীদের অবস্থান সরলরেখায় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার দূরে। তবে মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি-ঘান্দ্রুক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘান্দ্রুক থেকে বের হতে পারছেন না তারা।
এমএমএফ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট