সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সময়: ভোর ১০:১০

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, ‘পাকিস্তান প্রেমের’ অভিযোগ ছাত্রদলের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির দাবি, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন একটি ব্যক্তির ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় প্রদর্শন ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবমাননা’।
সংগঠনটির ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তির প্রতি বর্তমান নেতৃত্বের ‘প্রচ্ছন্ন অনুরাগ’ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ প্রকাশ করছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ওই বক্তব্যের প্রতিবাদে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তাৎক্ষণিকভাবে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। পরে ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন

সংস্কার শেষে উদ্বোধন ডাকসুর সংগ্রহশালা, থাকছে ইতিহাসের দুর্লভ স্মৃতি

ছাত্রদলের দাবি, বাংলা ভাষার অধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায় সেই জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতার চেতনার প্রতি ‘সরাসরি অবমাননা’।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়ে পরিষদটিকে নিজেদের ‘দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

ছাত্রদল আরও দাবি করে, মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার উদ্যোগ থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান ডাকসু পরিষদের ‘শিবির নিয়ন্ত্রিত’ কর্মকাণ্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনা থেকে বিচ্যুতির বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের বক্তব্য উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষাবিরোধী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ এবং ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে জোরালো আলোচনা

নেতারা আরও বলেন, ১৯৪৮ সালে তৎকালীন উদ্ভট রাষ্ট্রভাষা-নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ যেভাবে গড়ে উঠেছিল, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো ‘অপশক্তির’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
আরটি/এমআইএইচএস/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট