রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সময়: রাত ৯:০৮

তামিম হত্যা: ৯ জনের অব্যাহতির বিরুদ্ধে শুনানি আজ

 
দীপ্ত টেলিভিশনের সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবিসহ নয়জনকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিশন আবেদনের শুনানি আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর)।
ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালতে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট রিভিশন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় হামলার শিকার হন তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তার বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১১ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন নির্মাণ করেছিল শেখ রবিউল আলম রবির মালিকানাধীন প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ। ওই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তামিমকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ ওঠে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
মামলার নথি অনুযায়ী, মামুনের শ্বশুর ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাট প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের কাছ থেকে কিনেছিলেন। তামিমের পরিবার ওই ফ্ল্যাটটি তাদের জমির ওপর নির্মিত বলে দাবি করে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে বিরোধ চলছিল।মামলাটির তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক জাকারিয়া আলম গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ১৩ জনকে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে এক কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
তবে শেখ রবিউল আলমসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত প্রতিবেদনে অসন্তুষ্ট হয়ে গত ৮ জানুয়ারি বাদী সুলতান আহমেদ আদালতে নারাজি আবেদন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথভাবে সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বাদীর নেওয়া কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্যও হুবহু লিপিবদ্ধ না করে তদন্ত কর্মকর্তা নিজের মতো করে জবানবন্দি নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে মামলাটি পুনঃতদন্তের আবেদনও করেন বাদী।
তবে গত ৩ মার্চ ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে রবিউল আলমসহ নয়জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন আদালত। আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ। সেই আবেদনের ওপরই রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক ও মাহফুজার রহমান।
অব্যাহতি পাওয়া নয়জন হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকারিয়া আলম বলেন, তদন্ত শেষ করেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আর যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ আনা হয়েছে এবং যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কেন তা করা হয়েছে দুই বিষয়ই বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তদন্তে প্রভাবিত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
জাকারিয়া আলম আরও বলেন, তিনি যখন মামলাটির তদন্ত করেন, তখন কোনো রাজনৈতিক দল সরকারে ছিল না; অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে ছিল। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগও ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
এমডিএএ/এসএনআর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সম্পর্কিত পোস্ট